Monday, October 29, 2018

তোমাকেই ধরে বাঁচতে চাই, অপর্না

স্কুলবেলা - চার
-ঃ তোমাকেই ধরে বাঁচতে চাই, অপর্না ঃ-
21/01/2003

জীবনপথে পথ হারিয়ে ফেললেও
তোমাকেই ধরে বাঁচতে চাই, অপর্না।
ঝাউবনের চেরা গলি দিয়ে দেখতে পাই
আমার স্মৃতির শহরে তোমার খেলা;
মাঝে মাঝে খরগোশের মতো লাফিয়ে বেড়াই
তোমাকে পাওয়ার জন্যে।

ধূসর গোধূলিবেলায় আমি যখন
শান্ত খোলা মস্তিষ্ক নিয়ে ঘুরতে থাকি
তখন তালগাছের পাতা শিরশিরে
হাওয়া দিয়ে জাগিয়ে তোলে আবার,
আকাশের সন্ধ্যাতারা পাঠায় প্রেরণার চিঠি --
স্মৃতির খেয়া বেয়ে কলম ধরি আবার।

আজও মনে পড়ে বসন্তের এক সন্ধ্যায়
এসেছিলাম দুজনে বাড়ির পথে
শিশিরভেজা উঠোনের শাঁখের আওয়াজে
কি এক স্বপ্ন এসে দেখা দিল দুজনের হৃদয়ে;
আকাশের তারা বললঃ
সুন্দর, সুন্দর তোমাদের ভুবন।

জীবনের সব দুঃখের পরাগ আমি
কণ্ঠে ঢেলে নিয়েছি; অচেনা পথের কাছে
মানি নি হার --
জীবনপথে পথ হারিয়ে ফেললেও
তোমাকেই ধরে বাঁচতে চাই অপর্না!
(c) অক্ষয় কুমার সামন্ত

স্কুলবেলা - তিন (17/01/2003)

-ঃ শেষ বিকেলের গান ঃ-
17/01/2003

মুঠো মুঠো রোদ ঠোঁটে করে
নিয়ে যায় পাখির দল
নীচে অন্ধকারের জ্বালা বুকে নিয়ে
কাঁপে হাজার শতদল।

ও মেঘ, শেষ বৃষ্টির আগে
বলে যাওঃ কেন এতো অভিমান?
পাখির মতো চোখ তুলে আকাশ বললঃ
কাছে এসো, হৃদয়ে লিখেছি তোমার নাম।

শেষ বিকেলের গান শেষ হলে
ঘাসের বুকে উদাসীন স্বপ্ন জাগে
কবিতা শেষের আগে নতুন জীবনের টানে
ঘুমিয়ে পড়ি আমি কবিতার মাঝে।
(c) অক্ষয় কুমার সামন্ত

শেষ বিকেলের সূর্য

মেঘ ঠেলে চোখ মেলেছো
ফেলে এসো ইতিহাসচাপা পুরানো ঘর-বাড়ি
আমিও পা ফেলেছি, দেখি
কে বেশি দিতে পারে সন্ধ্যের আগে পাড়ি।

Friday, October 26, 2018

স্কুলবেলা - দুই (21/12/2002)

--ঃ রাত্রিতে দু'জনে ঃ--
21/12/2002

তোমার চোখের ঐ নরম পাতাগুলোর ওপর
আমার ঘুম নেমে আসে
তোমার হৃদয়ের সবুজ অরণ্যে
হাওয়া আর গান হতে ইচ্ছে করে আমার
কতো কাছাকাছি আমরা এই নিঝুম অন্ধকারে
তবু যেন কতোদূর বিশ্বাস খোঁজার তরে
এসেছি কাছে তবু যেন কেউ
কলঙ্ক দেবে বলে জ্যোৎস্নাকে ডেকে নেয়...

ভয় করি না আমি --
আমি অন্ধকারের চোখে চোখ রেখে
চাঁদকে আপন করতে শিখেছি
তুমিতো তার চেয়েও অনেক আপন আমার;
হয়তো কেউ আঁকছে সন্দেহের চোখ
তবু বলছি কাছে এসো
আমাদের এই আসা
সভ্যতারই বোনা খেলাঘর।
(c) অক্ষয় কুমার সামন্ত

Thursday, October 25, 2018

চাঁদের সাথে কিছুক্ষণ

চাঁদ একা একা ভিজছে শিশিরে

শীতের সংগে আমার শত্রুতা অনেকদিনের
তবু কথা রাখবো বলে
উঠেছি ছাদে
মাঝরাতে
একা...

ও চাঁদ, আমি জোৎস্না হয়ে
ছায়ার সাথে খেলবো বলে...
(c) অক্ষয় কুমার সামন্ত

স্কুলবেলা - এক

--ঃ বলতে পারো বন্ধু ঃ--

বন্ধু, বলতে পারো
যুদ্ধ কেন হয়
এতো ধ্বংসের পরেও কেন
হিংসা বেঁচে রয়?

এই সময়ে কেন বন্ধু
সভ্যতা কাঁদে ধুলার 'পরে
দেশের দেশের দ্বন্দ্ব লাগলে
মানুষের পর মানুষ মরে?

শান্ত দুটি চোখের 'পরে
কেন রক্ত উঠে আসে
ভায়ের প্রাণ ধুলায় লুটলে
হাসি নাচে আকাশে-বাতাসে?
(c) অক্ষয় কুমার সামন্ত
21/12/2002

এ বড় সুখের সময়

ছেলেবেলার প্রাপ্তিগুলো ছোট হলেও সেগুলো সারা জীবনের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকে।
বুকসেল্ফের পুরানো বইগুলো গোছাতে গোছাতে হঠাৎ হাতে এসে আটকে গেল স্কুল জীবনে প্রকাশিত হওয়া একটি লেখা। তখন আকাশবাণী কোলকাতা প্রচারতরঙ্গে সকাল সাতটায় প্রাত্যহিকীর অনুষ্ঠান হতো। আমি মাঝে মাঝে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর লেখা পাঠাতাম। একটি প্রকাশনা সংস্থা লেখাগুলো সংগ্রহ করে বই-এর আকারে প্রকাশ করতো। তেমনই একটি আমার লেখাঃ

--ঃ এ বড় সুখের সময় ঃ--

জীবনালোকের সন্ধানী প্রাত্যহিকী,
তুমি বললে কুড়ানো কিছু সুখফুল আঁচল ভরে দিতে, আমি তা না পারলেও যে হৃদয়পঞ্জিকা পাঠালাম তাতে আমার ফুলের অম্লান হাসি খুঁজে পাবে - আশা করি।
আমার জীবনের আকাশগঙ্গায় এসেছিল একজন। মনে হল প্রথম বসন্তের প্রভাতকাল। সকালের রূপোলি আলোয় মুখ তার অপরূপ; - মন্দ সমীরণের দোলায় নড়ছিল তার চুল - বেণীর খোঁপাতে জ্বলেছিল অমৃতসৃর্য; আর তারই স্বপ্নালো হাওয়ায় দুলেছিলাম আমি। তাকে দেখে মনে পড়ছে না একটিও কবিতার নাম - মনে পড়ছে না বেরিয়ে আসার সময় বুলবুলটি শুকনো ঠোঁটে কী গান গেয়েছিল; কিন্তু মনের আকাশে ভেসে উঠছে মেয়েটির প্রতিটি স্বপ্নপালকের রং। সে চিনত আমায়। সহপাঠিনী। কাছাকাছি যেতে স্বপ্নভরা আঁখিদুটির শান্তদুটি পাতা সরিয়ে বললঃ কেমন আছো?
আমি বললামঃ ভালো।
-- কোথায় গিয়েছিলে? টিউশান?
আমি বললামঃ হ্যাঁ।
বাড়ি ফিরছিল সে। পথে যেতে যেতে কথা হলো। ভাষা ছুটলো নদীর মতো। মোহনায় আসার আগে স্তব্ধ হল প্রবাহ। গন্তব্যস্থলের সাঁকোটা বেয়ে দুজন দুদিকে চললাম। সেদিন রাত্রেই 'ফিরে দেখা' কবিতায় লিখলামঃ
"আমি এসেছিলাম টিউশান থেকে
তুমি এসেছিলে বাড়ির পথে
ক্লান্ত সকালে ভীরু ভীরু চোখে
ফিরে ফিরে চেয়েছিলে বারেবার
চোখের সম্মুখে ক্লান্তিময় আলোয়
কেঁপে উঠেছিল রোদ্দুর
স্নিগ্ধ আকাশের সবুজ আঁচল
উড়ছিল হাওয়ায় আর তোমার ঘাড়ের উপর
কোমল চুলগুলি হাত নেড়ে বলেছিলঃ
ফিরে এসো, ফিরে এসো;

ফিরে দেখা হয়নি আর --
ভাগ্যাকাশের পৃথিবী আজ দিনের আশায়
                      মুখ তুলে আছে।"

কবিতাটি পড়েছিল সে। তারপরে জন্ম নিল অনুরাগ। তার হৃদয়ের শান্ত আকাশ যৌবনের দীপশিখায় চঞ্চল হয়ে উঠল। সে একদিন শুনিয়েছিল আমায়ঃ "ওগো স্বপ্ন তুমি চলে যেও না"...
তারপর স্কুলের বিদায় উৎসবের দিনে কাছে গিয়ে বললামঃ
"গ্রহন করো বিদায়ের শেষ মাল্য খানি
হয়তো আর কভু হবে না দেখা!.."
চোখ থেকে ঝরে পড়ল জল। না জানি কবেকার জমে থাকার আঁখিজল।
তখুনি কম্পিত কণ্ঠে সে গাইলঃ
"আমি তোমার প্রেমে হব সবার কলঙ্কভাগী"...

তারপরে একটি কবিতা লিখে দিলাম তাকেঃ
"জীবনের সব ফুল ঝরে গেলে তবু
আমারি মনের আঙিনায় রয়েছো তুমি
আমারি মনভূমিতে তোমারি আসন পাতিয়াছি --
তোমারি সোপানে রয়েছি আমি।

মোর গান থেমে গেলে
অপরাহ্নবেলার মন্দ সমীরণে
বালুকাতটে এসে কণ্ঠে ধরো গান --
তারি মাঝে বেঁচে রবে মোর নাম।"
                -- 'তোমারি সোপানে আমি'।
হ্যাঁ প্রাত্যহিকী, আজও সে আমার স্বপ্নে  বেঁচে আছে।

তোমাকেই ধরে বাঁচতে চাই, অপর্না

স্কুলবেলা - চার -ঃ তোমাকেই ধরে বাঁচতে চাই, অপর্না ঃ- 21/01/2003 জীবনপথে পথ হারিয়ে ফেললেও তোমাকেই ধরে বাঁচতে চাই, অপর্না। ঝাউবনের চেরা...