Monday, October 29, 2018

তোমাকেই ধরে বাঁচতে চাই, অপর্না

স্কুলবেলা - চার
-ঃ তোমাকেই ধরে বাঁচতে চাই, অপর্না ঃ-
21/01/2003

জীবনপথে পথ হারিয়ে ফেললেও
তোমাকেই ধরে বাঁচতে চাই, অপর্না।
ঝাউবনের চেরা গলি দিয়ে দেখতে পাই
আমার স্মৃতির শহরে তোমার খেলা;
মাঝে মাঝে খরগোশের মতো লাফিয়ে বেড়াই
তোমাকে পাওয়ার জন্যে।

ধূসর গোধূলিবেলায় আমি যখন
শান্ত খোলা মস্তিষ্ক নিয়ে ঘুরতে থাকি
তখন তালগাছের পাতা শিরশিরে
হাওয়া দিয়ে জাগিয়ে তোলে আবার,
আকাশের সন্ধ্যাতারা পাঠায় প্রেরণার চিঠি --
স্মৃতির খেয়া বেয়ে কলম ধরি আবার।

আজও মনে পড়ে বসন্তের এক সন্ধ্যায়
এসেছিলাম দুজনে বাড়ির পথে
শিশিরভেজা উঠোনের শাঁখের আওয়াজে
কি এক স্বপ্ন এসে দেখা দিল দুজনের হৃদয়ে;
আকাশের তারা বললঃ
সুন্দর, সুন্দর তোমাদের ভুবন।

জীবনের সব দুঃখের পরাগ আমি
কণ্ঠে ঢেলে নিয়েছি; অচেনা পথের কাছে
মানি নি হার --
জীবনপথে পথ হারিয়ে ফেললেও
তোমাকেই ধরে বাঁচতে চাই অপর্না!
(c) অক্ষয় কুমার সামন্ত

স্কুলবেলা - তিন (17/01/2003)

-ঃ শেষ বিকেলের গান ঃ-
17/01/2003

মুঠো মুঠো রোদ ঠোঁটে করে
নিয়ে যায় পাখির দল
নীচে অন্ধকারের জ্বালা বুকে নিয়ে
কাঁপে হাজার শতদল।

ও মেঘ, শেষ বৃষ্টির আগে
বলে যাওঃ কেন এতো অভিমান?
পাখির মতো চোখ তুলে আকাশ বললঃ
কাছে এসো, হৃদয়ে লিখেছি তোমার নাম।

শেষ বিকেলের গান শেষ হলে
ঘাসের বুকে উদাসীন স্বপ্ন জাগে
কবিতা শেষের আগে নতুন জীবনের টানে
ঘুমিয়ে পড়ি আমি কবিতার মাঝে।
(c) অক্ষয় কুমার সামন্ত

শেষ বিকেলের সূর্য

মেঘ ঠেলে চোখ মেলেছো
ফেলে এসো ইতিহাসচাপা পুরানো ঘর-বাড়ি
আমিও পা ফেলেছি, দেখি
কে বেশি দিতে পারে সন্ধ্যের আগে পাড়ি।

Friday, October 26, 2018

স্কুলবেলা - দুই (21/12/2002)

--ঃ রাত্রিতে দু'জনে ঃ--
21/12/2002

তোমার চোখের ঐ নরম পাতাগুলোর ওপর
আমার ঘুম নেমে আসে
তোমার হৃদয়ের সবুজ অরণ্যে
হাওয়া আর গান হতে ইচ্ছে করে আমার
কতো কাছাকাছি আমরা এই নিঝুম অন্ধকারে
তবু যেন কতোদূর বিশ্বাস খোঁজার তরে
এসেছি কাছে তবু যেন কেউ
কলঙ্ক দেবে বলে জ্যোৎস্নাকে ডেকে নেয়...

ভয় করি না আমি --
আমি অন্ধকারের চোখে চোখ রেখে
চাঁদকে আপন করতে শিখেছি
তুমিতো তার চেয়েও অনেক আপন আমার;
হয়তো কেউ আঁকছে সন্দেহের চোখ
তবু বলছি কাছে এসো
আমাদের এই আসা
সভ্যতারই বোনা খেলাঘর।
(c) অক্ষয় কুমার সামন্ত

Thursday, October 25, 2018

চাঁদের সাথে কিছুক্ষণ

চাঁদ একা একা ভিজছে শিশিরে

শীতের সংগে আমার শত্রুতা অনেকদিনের
তবু কথা রাখবো বলে
উঠেছি ছাদে
মাঝরাতে
একা...

ও চাঁদ, আমি জোৎস্না হয়ে
ছায়ার সাথে খেলবো বলে...
(c) অক্ষয় কুমার সামন্ত

স্কুলবেলা - এক

--ঃ বলতে পারো বন্ধু ঃ--

বন্ধু, বলতে পারো
যুদ্ধ কেন হয়
এতো ধ্বংসের পরেও কেন
হিংসা বেঁচে রয়?

এই সময়ে কেন বন্ধু
সভ্যতা কাঁদে ধুলার 'পরে
দেশের দেশের দ্বন্দ্ব লাগলে
মানুষের পর মানুষ মরে?

শান্ত দুটি চোখের 'পরে
কেন রক্ত উঠে আসে
ভায়ের প্রাণ ধুলায় লুটলে
হাসি নাচে আকাশে-বাতাসে?
(c) অক্ষয় কুমার সামন্ত
21/12/2002

এ বড় সুখের সময়

ছেলেবেলার প্রাপ্তিগুলো ছোট হলেও সেগুলো সারা জীবনের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকে।
বুকসেল্ফের পুরানো বইগুলো গোছাতে গোছাতে হঠাৎ হাতে এসে আটকে গেল স্কুল জীবনে প্রকাশিত হওয়া একটি লেখা। তখন আকাশবাণী কোলকাতা প্রচারতরঙ্গে সকাল সাতটায় প্রাত্যহিকীর অনুষ্ঠান হতো। আমি মাঝে মাঝে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর লেখা পাঠাতাম। একটি প্রকাশনা সংস্থা লেখাগুলো সংগ্রহ করে বই-এর আকারে প্রকাশ করতো। তেমনই একটি আমার লেখাঃ

--ঃ এ বড় সুখের সময় ঃ--

জীবনালোকের সন্ধানী প্রাত্যহিকী,
তুমি বললে কুড়ানো কিছু সুখফুল আঁচল ভরে দিতে, আমি তা না পারলেও যে হৃদয়পঞ্জিকা পাঠালাম তাতে আমার ফুলের অম্লান হাসি খুঁজে পাবে - আশা করি।
আমার জীবনের আকাশগঙ্গায় এসেছিল একজন। মনে হল প্রথম বসন্তের প্রভাতকাল। সকালের রূপোলি আলোয় মুখ তার অপরূপ; - মন্দ সমীরণের দোলায় নড়ছিল তার চুল - বেণীর খোঁপাতে জ্বলেছিল অমৃতসৃর্য; আর তারই স্বপ্নালো হাওয়ায় দুলেছিলাম আমি। তাকে দেখে মনে পড়ছে না একটিও কবিতার নাম - মনে পড়ছে না বেরিয়ে আসার সময় বুলবুলটি শুকনো ঠোঁটে কী গান গেয়েছিল; কিন্তু মনের আকাশে ভেসে উঠছে মেয়েটির প্রতিটি স্বপ্নপালকের রং। সে চিনত আমায়। সহপাঠিনী। কাছাকাছি যেতে স্বপ্নভরা আঁখিদুটির শান্তদুটি পাতা সরিয়ে বললঃ কেমন আছো?
আমি বললামঃ ভালো।
-- কোথায় গিয়েছিলে? টিউশান?
আমি বললামঃ হ্যাঁ।
বাড়ি ফিরছিল সে। পথে যেতে যেতে কথা হলো। ভাষা ছুটলো নদীর মতো। মোহনায় আসার আগে স্তব্ধ হল প্রবাহ। গন্তব্যস্থলের সাঁকোটা বেয়ে দুজন দুদিকে চললাম। সেদিন রাত্রেই 'ফিরে দেখা' কবিতায় লিখলামঃ
"আমি এসেছিলাম টিউশান থেকে
তুমি এসেছিলে বাড়ির পথে
ক্লান্ত সকালে ভীরু ভীরু চোখে
ফিরে ফিরে চেয়েছিলে বারেবার
চোখের সম্মুখে ক্লান্তিময় আলোয়
কেঁপে উঠেছিল রোদ্দুর
স্নিগ্ধ আকাশের সবুজ আঁচল
উড়ছিল হাওয়ায় আর তোমার ঘাড়ের উপর
কোমল চুলগুলি হাত নেড়ে বলেছিলঃ
ফিরে এসো, ফিরে এসো;

ফিরে দেখা হয়নি আর --
ভাগ্যাকাশের পৃথিবী আজ দিনের আশায়
                      মুখ তুলে আছে।"

কবিতাটি পড়েছিল সে। তারপরে জন্ম নিল অনুরাগ। তার হৃদয়ের শান্ত আকাশ যৌবনের দীপশিখায় চঞ্চল হয়ে উঠল। সে একদিন শুনিয়েছিল আমায়ঃ "ওগো স্বপ্ন তুমি চলে যেও না"...
তারপর স্কুলের বিদায় উৎসবের দিনে কাছে গিয়ে বললামঃ
"গ্রহন করো বিদায়ের শেষ মাল্য খানি
হয়তো আর কভু হবে না দেখা!.."
চোখ থেকে ঝরে পড়ল জল। না জানি কবেকার জমে থাকার আঁখিজল।
তখুনি কম্পিত কণ্ঠে সে গাইলঃ
"আমি তোমার প্রেমে হব সবার কলঙ্কভাগী"...

তারপরে একটি কবিতা লিখে দিলাম তাকেঃ
"জীবনের সব ফুল ঝরে গেলে তবু
আমারি মনের আঙিনায় রয়েছো তুমি
আমারি মনভূমিতে তোমারি আসন পাতিয়াছি --
তোমারি সোপানে রয়েছি আমি।

মোর গান থেমে গেলে
অপরাহ্নবেলার মন্দ সমীরণে
বালুকাতটে এসে কণ্ঠে ধরো গান --
তারি মাঝে বেঁচে রবে মোর নাম।"
                -- 'তোমারি সোপানে আমি'।
হ্যাঁ প্রাত্যহিকী, আজও সে আমার স্বপ্নে  বেঁচে আছে।

Wednesday, October 24, 2018

কিছু কথা কিছু ভবিষ্যৎ

‘যেদিন তুই অনেক বড়ো হবি
সেদিন অন্তত আমার কথা বলিস'
আমি বললামঃ যতোটা জায়গা দিবি ততোটা বলবো...
তুই বললিঃ যেমন?
যদি এক লাইন জায়গা দিস
আমি বলবোঃ তুই খুব ঝগড়াটে।
যদি দু’ লাইন জায়গা দিস
আমি বলবোঃ তুই কথায় কথায় ঝগড়া করিস
দেখতেও ভালো না।
তুই বললি যদি আরও আরও দিই...

আমি বললামঃ যদি সারা মনটাই দিস
এক আকাশ লিখবো তোকে নিয়ে
লিখতে লিখতে পৃথিবী পেরোবে তার কক্ষপথ...
তবু বয়স ধরে রাখবো তোর
চাঁদ-তারা-সূর্যের মতো
সুন্দর দেখাবে তোকে আজও যেমন সুন্দর আছিস
অ্যাস্ট্রোনটরা তোকে নিয়ে গবেষণায় বসবে
রাত জেগে জেগে অংকে কষবে তোর বয়স
তুই শুধু জেগে থাকবি আমার হৃদয়ের ভেতর
যেমন করে মাটির গভীরে বেঁচে থাকে জল।

Tuesday, October 23, 2018

পৌলমীদি, কোথায় খুঁজবো তোমাকে

পৌলমীদি, তোমাকে চিনেছি কবিতায় আর চিনেছি
আনন্দমেলায় আমার কবিতা বেরিয়েছিল বলে
চিঠিটা ফেলে গেছ তুমি ঠিকানা লেখোনি
এবার কোথায় তোমাকে খুঁজি তবে?

আমি দেখি কবিতার পাতায় তোমার নতুন করে জন্মানো
বিষাদের সুর আগুনের লাল তরঙ্গ সরিয়ে এসো
সত্যি কি কবির মৃত্যু হয় কখনো?
নাহয় আগুন হয়ে চেতনায় বারবার ফিরে এসো।

আমার স্যার অসীমবাবু

আমি তখন সদ্য নতুন সাদামাটা একটা ছেলে
ক্লাস ইলেভেনে পা রেখেছি নৈপুর স্কুলে
অনেক বড় স্কুলের মাঝে আমি তখন বড্ড ফিকে
অচেনা গেট অচেনা ক্লাসরুম অচেনা সব তাকাই যেদিকে...

সায়েন্সের সাবজেক্টের চাপে চোখ থাকতো ভারী হয়ে
অন্য বিষয়ের স্যারদের তখন চিনবো কেমন করে
দেখতে দেখতে বছর ঘুরল- টুয়েলভে পা ফেললাম
জোনাকির মতো একটু আলো জ্বালতে পেরে একটু চেনা হলাম।

যেদিন আমি স্কুল ছাড়ি- স্যারদের কতো ভালোবাসা বাসি
অচেনা সব চেনা হয়ে সুর তুললো মনের সেতারে
ততদিনে ভূগোলের স্যার অসীমবাবুর ছাত্রদরদী মিষ্টি হাসি
কৃষ্ণচূড়ার রংয়ের মতো ভেসে উঠেছে নৈপুরের আকাশপারে...

ঢেউয়ের মতো উঠতে নামতে পেরিয়ে গেল পনের বছর...

স্যার বললেন, তোমাকে আবিষ্কার করছি নতুন করে
জীবনের সেরা পুরষ্কার এল কবিতার ডানায় ভর করে
বুঝলাম, আমার জীবন ছাপিয়ে কবিতা ডানা মেলেছে আকাশে
আমি নীঁচু হই, যেন স্যারের আশীর্বাদ যায় আমার মাথা ছুঁয়ে...

জন্মদিনে আমি আপনাকে কিবা দিতে পারি আর
অগাধ শ্রদ্ধা ভালোবাসার এই ছোট্ট কবিতা দিলাম উপহার
হাসতে হাসতে বছরের পর বছর পার করুন
এই জীবনপথে সারাজীবন আমার শিক্ষক হয়ে থাকুন।।
               

21 শে অক্টোবর, আজাদ হিন্দ সরকার

নেতাজি তোমাকে এখনও ভাবি, পতাকায় ঢেউ খেলো
যারা পথ খুঁড়েছিল, হেরে গেছে; সব কি চাপা দেওয়া যায়
ইতিহাসের ঢাকনা খুলে দেখবো আবার সেই সকালের আলো
পনের ই আগস্টের মতো পতাকা উড়বে আজ লালকেল্লায়।

তোমার সরকার ছিল সব ভারতীয়ের ভারতের সরকার
রক্তে-ধর্মে-মৃত্তিকায় কোথাও ভাগ ছিল না এতোটুকুও
নতুন স্বাধীনতার ভোরে তোমাকেই আবার দরকার
কোন্ মাঝরাতে তোমার ঘোষণা ভেসে আসবে, বলো?

Friday, October 19, 2018

হে নক্ষত্র

হে নক্ষত্র, পথ ছেড়ো না আমার
যেতেই যদি হয়
আমাকে সংগে নিয়েই চলো
যুগ যুগ ধরে আমার শরীরে
তোমার আলো ফুটে থাক
আবার জন্মাই যদি ঐ আলো দেখে
যেন চিনে নিতে পারিঃ
আমি বলে কেউ ছিল না
আমার ভেতর ছিলে তুমি
আর ছিল কবিতার শোক।
           

Tuesday, October 16, 2018

কবি হতে পারো নি

এখনও যদি মাসিক কিছু রোজগারের ভেতর
নিজেকে হাঁটা চলা করতে দ্যাখো
মাথার মধ্যে চলা কিছু হিসেব নিকেশ
তোমাকে বাড়ির দরজা পর্যন্ত পৌঁছে দেয়
তাহলে বলবো দারিদ্রতা দোষী নয়, তুমিই দোষী
তুমি কবি হতে পারো নি --
কবিত্বের মধ্যে কোন দারিদ্রতা নেই।

Sunday, October 14, 2018

আমার 22 শে শ্রাবণ

মা বললেনঃ 'তাড়াতাড়ি স্নান সেরে শুদ্ধ মনে রবিঠাকুরের ঐ ছবিতে মালা দিয়ে আয়।'
আমি বললামঃ কেন?
মা বললেনঃ আজ বাইশে শ্রাবণ।
আমি বললামঃ তাতে কি হয়েছে ?
মা বললেনঃ আজকের দিনে আমরা অনাথ হয়ে গেছিলাম। রবীন্দ্রনাথ পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন।
আমি বললামঃ 'সে কি ?
কাল রাত্রেই তো উনার সংগে দেখা হলো।
আমার ঘরে ঢোকার সময় চৌকাঠে পা লেগে হোঁচট খেলেন। হাতে আর পায়ে আঘাত পেলেন। আমি বললাম - চিন্তা করবেন না। আপনি আমার পিঠে চেপে বসবেন। আমি আপনাকে হামাগুড়ি দিয়ে বিশ্বভ্রমন করাবো আর যা যা লেখার বলবেন, আমি লিখে দেবো।'
বাবা আমাকে জাগিয়ে দিয়ে বললেন, ঘুমের ঘোরে কি বলছিস।
আমি বললাম, স্বপ্নে রবীন্দ্রনাথ এসেছিলেন। তুমি জাগিয়ে দিলে কেন?
তারপর বাবাকে আঁকড়ে ঘুমিয়ে গেছি।
তখন আমি সদ্য ফোর পাস করে স্কুলে পা রেখেছি।
মা কে বললামঃ 'আমার রবীন্দ্রনাথ বুড়ো হয় না। যার মধ্যে এ্যাতো প্রেম সে কি বুড়ো হয় কক্ষনো?
আমার রবীন্দ্রনাথ চিরযুবক সুদর্শন ব্যক্তিত্ব। যার গলার পাশ দিয়ে চুলগুলো নেমে এসেছে বুক পর্যন্ত, চোখের ভেতরে চক্ চক্ করছে আলো।'
মা বললেনঃ 'ভালোবাসার মৃত্যু হয় না কখনও।
রবীন্দ্রনাথ তো তোর ভালোবাসায়।
তাঁর মৃত্যু হবে কি করে !...
বাইশে শ্রাবণতো ক্যালেন্ডারের একটা দিন মাত্র...'

(c) অক্ষয় কুমার সামন্ত

ওগো কবি, তোমাকে

ওগো কবি, তুমি এমন করে লেখো না
তোমার কবিতার শব্দে ডুব দিতে দিতে
হৃদয় ভেসে গেছে আটলান্টিকের অতলে
যেখানে প্রেম ঝিনুকের মতো খেলা করে
আমি বারবার ডুবুরির চোখ আড়াল করে
ঠোঁটে ভালোবাসার গন্ধ নিয়ে
ছুটে বেড়াই মৎস্যকন্যার মতো।
ওগো কবি, তুমি তো বোঝ না কিছুই
তুমি তো শুধু শব্দের পাল তুলে দাও
আর সে নৌকায় ভাসতে ভাসতে
আমি পৌঁছে যাই নদীর অচেনা কোন ঠিকানায়
যেখানে ভাস্কো-দা-গামার চেয়েও বিচক্ষণের মতো
তোমাকে আবিষ্কার করি আমার হৃদয়ের
শোঁ শোঁ তরঙ্গে ভরা ঝাউবনে।

ওগো কবি, তুমি কেমন করে খুঁজে পাও
আমার ঠোঁটের কোনে দেবদারুর হাসি
সেই রৌদ্রে গাছও থমকে দাঁড়ায়
এই মহাপৃথিবীর পতন স্তব্ধ হয়
আরও কয়েকলক্ষ বছরের জন্যে...
কত জন্ম ধরে ভালোবেসেছ তুমি
তোমার শব্দে কেন এ্যাতো মালতীলতার আবেশ
আমি বারবার নিজেকে ভুলে
তোমাকেই ভালোবেসে ফেলি।

স্বামী যখন পাশ ফিরে ঘুমায়
ওগো কবি, তুমি যেন অন্ধকারের নৃশংসতা
ব্ল্যাকহোলে ফেলে এসে অজানা এক নিভৃত সুখে
আমাকে আলতো করে নিয়ে যাও...
আমি অবাক বিস্ময়ে হৃদয়ের ভেতর কাঁদতে থাকি
সে কান্নায় গলে যায় ঈশ্বরেরও চোখ
মনে মনে বলতে থাকিঃ
না যেন জানে স্বামী আর পাড়ার লোক!

সব শব্দ শেষ হলে কবি ফেলে যায়
হৃদয়ের মোড়কে লেখা একটি চিঠিঃ
তুমি তোমার সব নিয়ে থাকো
শুধু না হয় কবিতার হৃদয়ের কাছে
তোমার হৃদয়টা ফেলে রাখো।
(c) অক্ষয় কুমার সামন্ত

পাগলী, তোমাকে বলার অপেক্ষায়

পাগলী, তুমি চাইলেই
মোনালিসার চেয়েও সুন্দর করে তোমাকে
ফুটিয়ে তুলবো হৃদয়ের উষ্ণতা দিয়ে
তোমার আড়চোখে তাকানোর সুর ছড়িয়ে দেব
ইসরোর স্যাটেলাইটে মহাকাশে
তোমার হৃদয়ের হাসি ঢেলে দেব চাঁদের চোখে -
রাত্রি এসে দাঁড়াবে নতুন ডানায় ভর করে...

পাগলী, তোমার জন্যে
আমি হাসি মুখে মেনে নিতে পারি মৃত্যুদণ্ড
তোমার আঁচলটা পেতে দাও - লিখে যাবো :
আমি তোমাকে ভালোবেসেছিলাম
তুমি হয়তো অভিনয় করেছিলে
আমার হৃদয় তো কখনও করে নি !!
(c) অক্ষয় কুমার সামন্ত

পূজো


সবাই বলছে পূজো এসেছে
চারদিকে খুব আয়োজন
কাজ ফেলে খুশির সুতোয়
হাসির ঘুড়ি ওড়ানো...

কিন্তু মনের মন্দির তো খুব ফাঁকা
কোন দর্শনার্থী নেই
কোন প্রতীক্ষার চোখ নেই
কোন আলোকসজ্জা নেই
যদিও তার আলোকসজ্জার
প্রয়োজন হয় না কখনও
ভক্তির প্রদীপে সে অপরূপ...

তাহলে কি দুরকম পূজোর বিধান আছে?
নাকি আমরাই করেছি এমন --
নিজেকে নিজের ভেতর একলা ফেলে রেখে
বাইরের চেয়ে থাকা চোখে
নিজেকে সাজিয়ে তোলার কারুকার্য!
(c) অক্ষয় কুমার সামন্ত

Saturday, October 13, 2018

অসুখ

যেমন করে নদীর ব্যথার কথা
ঝড়ের রাতে বুঝতে পারে নদীর পাড়
তেমন করে অসুখ সহসা এসে
মৃত্যুর পথ চিনিয়ে দিয়ে গেছে।
অবহেলার সিঁড়িতে কতটুকু আর ওঠা যায়
কাজগুলোকে জমিয়ে জমিয়ে স্তূপের নীচে
চাপা পড়ে গেছি - শব্দ খুঁজি অক্সিজেনে
আমাকে থামিয়ে শেষ চিঠি লেখে কলম
তার না লেখা ব্যথার কালিতে।

অগোছালো সময় ঘড়ির কাঁটাকে
অবজ্ঞা করে হারিয়ে ফেলে গতি
আর তার পিছনে আমি প্রবাহহীন --
বিছানায় শুয়ে শুয়ে মুমুর্ষু চোখে
ব্যর্থতাকে ফিরে ফিরে যোগ করি;
আর কি এক মোহে একটু ভালোবাসার জন্যে
গায়ে লেপ মুড়ি দিয়ে
শীতের রাতে নক্ষত্রের কপালে
আমার মৃত্যুচিহ্ন আঁকি।
(c) অক্ষয় কুমার সামন্ত

আজ যদি তোমাকে প্রশ্ন করি

আজ যদি তোমাকে প্রশ্ন করিঃ
      ভালোবেসে কি পেয়েছ তুমি?
--'হৃদয়ের কাছে আরো ঋণী হয়েছি'।

কতোদিন হাঁটতে পারবে
            এইভাবে এই পথে?
--'মৃত্যুর পরেও হাঁটবো
        ছায়া হয়ে সূর্যের কক্ষপথে'।

যদি কোনদিন ডুবে যাই
      আলো ফোটার আগেই?
--'মৃতেরাও ঢেউ তোলে
         অবসরের নি:শ্বাসে'!

কি চাও আজ আমার কাছে?
--'কিছুই তো চাইনি কোনদিন
       শুধু তোমার অন্তরীক্ষে আমার
               পাতারা নি:শ্বাস হয়ে থাকুক'।
(c) অক্ষয় কুমার সামন্ত

Friday, October 12, 2018

ভোর

নদীর জলের মতো
তার কথাগুলো এসে
আমাকে ভিজিয়ে দিয়ে গেছে;
ভালোবাসা এসেছে কিনা জানি না -
তবে তার পথে সময় ঢেলে
মৃত্যুরও বন্ধু হয়েছি।

যা চেয়েছি তা পেয়েছি কি?-এই ভেবে
রাত জ্বরে কাঁপলে
চাঁদ ডেকে আনি মনের খাঁচায়
ব্যথার চাদরে উপেক্ষাকে ঢেকে
আরো ব্যথা ডেকে আনি
যদিও সে ব্যথা আকাশের রং মেখে
ঘুমের ডানায় ভোর নিয়ে আসে।

(c) অক্ষয় কুমার সামন্ত

Thursday, October 11, 2018

ফিরে দেখা টুকরো টুকরো সময়

এইপথে আমাদের দেখা হয়েছিলো
চোখে কাঁপছিলো শান্তির চেয়েও গভীর
আদর জড়ানো এক সান্ত্বনা
...
এখনও ঐ পথ আমার রাতের জানলায়
               বসন্ত নিয়ে আসে।

                    2
আমার সব শব্দ খসে গেলে
আলো নিভিয়ে কলম তুলে রাখি
জানলায় হাত রেখে কতো কথা বলে যায়
তারার মতো তোমার দুটো আঁখি...

                    3
তুমি হাত রাখো
আমার মাঝরাতের কবিতায়
ঘুম চেয়েছি আমি
আবার জেগে উঠবো বলে
মাঝরাতে
তোমার ঠোঁটের না বলা কথায়।    
(c) অক্ষয় কুমার সামন্ত

পথ

অন্ধকারে ঠোঁট ছিঁড়ে খাওয়াকে
কেউ চুম্বন বলে না
স্বজন পোষন আর তোষামোদকে
উন্নয়ন বলে না।

গণতন্ত্রের বোবা ঠোঁটে কথা ফোটাবো বলে
যেই কালিতে কলম ডোবাই
মুখে কালো কাপড় বেঁধে সামনে দাঁড়ায়
আমারই কোন ভাই।

দারিদ্রতার চেয়েও অনেক বেশি আজ
ক্ষমতা সমাজকে ছিঁড়ে খায়
থকথকে রক্ত আর থমথমে ঠোঁটে
বিবেকের গান পথ হারায়।

হে বন্ধু, হৃদয়ের সূর্যকে আকাশের মাথা ছোঁয়াও
ফেলে দাও সব তরবারি
আমিও কান্নার পরে
ক্ষমা করে দিতে পারি।
(c) অক্ষয় কুমার সামন্ত

Wednesday, October 10, 2018

অন্ধকার নাকি অন্ধ

অন্ধকার, তুমি কি সত্যিই আছো
নাকি আমার মস্তিষ্কের নীচে
    সূর্য ডুবে গেলে
আমি অন্ধ হয়ে যাই...
...সময়ের শূন্যতায় তীর গেঁথে
আত্মহত্যা করি আর দেখিঃ
ভবিষ্যতের জিহ্বা নড়ে
আমার বন্ধ চোখের পাশে।
(c) অক্ষয় কুমার সামন্ত

সব কবিতা শেষ হলে

আমার সব কবিতা শেষ হলে
রাত নামুক তোমার চোখে
সোনালী চাঁদ ছিঁড়ে
ফেলে আসবো অন্য কোথাও
শুধু তোমাকে ভালোবেসে।
তোমাকে পাওয়ার চেয়ে
মৃত্যুও অনেক সহজ মনে হয়
অগোছালো হৃদয়ের
সব জঞ্জাল পুড়িয়ে ফেলার পর
শুধু তোমার প্রেম বেঁচে রয়।
(c) অক্ষয় কুমার সামন্ত

Tuesday, October 9, 2018

আমি সেই বিধবা

প্রত্যেক যন্ত্রণা বুকে বাজার জন্যেও
কোথাও আকাশ আছে
প্রত্যেক চোখের জলের ফোঁটার জন্যেও
কোথাও নদী আছে
যখন চাঁদের কোলে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করি
মেঘ সব জল শুষে নিয়ে বলেঃ
আর কেঁদো না, আমরা তোমার বৃষ্টি হবো।

অনেক কষ্টে কোনরকমে সংসার চলতো।
সে দিনমজুরের কাজ করতো।
ফসল ফলানোর জন্যে কিছু টাকা ধার করেছিল সে।
পরপর দু বছর ফসল হয় নি ভালো
একবছর ভেসে গেল বন্যায়
আর একবছর ঝরে গেল বৃষ্টিতে।
টাকা শোধ না দেওয়ার যন্ত্রণায় সে বিষ খেল।
আমার কোলে তখন ছোট্ট দুটো বাচ্চা।
আমার কিছুই ছিল না তাদের খাওয়ানোর।
দিনগুলো যেন অন্ধকার হয়ে বসেছিল চোখের ভেতর।
অন্ধকারের চোখে আরো অন্ধকার ঢেলে
হিংস্র জানোয়াররা
লোভী দাঁত দিয়ে ছিঁড়ে খেত আমার শরীর।
আমি ছিলাম বরফবন্দী স্বপ্নহীন কিছু মাংসের মতো।

কিন্তু সমাজ যেখানে নিঃস্ব করে দেয় হৃদয়কে
সেখানে হাত রাখেন ঈশ্বর ।
শুরু করলাম সেলাই এর কাজ
কাপড় সেলাই করতে করতে
ঐ সুতো দিয়ে আমি স্বপ্ন বুনতাম।
আমার মেয়ের এক টুকরো হাসি আজ
আমার সব অন্ধকারের দরজা ভেঙে দেয়
আজ সে কলেজে পড়ে
আমার পাশে আমার মেয়ে
আমি পেয়েছি আমার আকাশ ।
©®অক্ষয় কুমার সামন্ত

ও নদী

ও নদী, কেন তোমার নাম বলো না কখনও
যেখানে যে নামেই ডাকি চোখ তুলে তাকাও তখনও।
আমি তোমার ঢেউয়ের নাম দিলাম ফাল্গুনী
আমাকে সে সাজিয়ে নেবে ডুবিয়ে তার রং তুলি।
ব্যস্ততা খুলে তার জন্যে এনেছি আমার সব
ভালোবাসার চিঠি, গীতবিতান আর উপনিষদ।
আমাকে ডোবাও আমাকে ভাসাও আমাকে পূর্ণ করো
দূর সীমানার অচেনা আকাশকে
                         আমার তারায় জড়ো করো।

এখনও ঘুমিয়ে আছো

বিদ্যুতের ঝলকানিতেও চাদর মুড়ি দিয়ে আছো
হিসেব করছো বেহিসাবী মেঘ কত জোরে ছোটে?
     নদীর জলে বানভাসী হলে দেখবে -
       ওটা ছিল তোমারই অশ্রুপ্রবাহ।

      এখনও ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে ভাবছো
তোমার ওপর দিয়ে নিয়ে গেল কার মৃতদেহ?
          একদিন জেগে উঠে দেখবে
           ওটা ছিল তোমারই লাশ!...
(c) অক্ষয় কুমার সামন্ত

Sunday, October 7, 2018

অনেক বছর পর

একদিন চাঁদ-তারা-আকাশ থাকবে আগের মতোই
বদলে যাবে গাছেদের গভীরে সন্ধ্যা নামার ইঙ্গিত
গ্রীষ্মের নি:শ্বাসে বসন্তের ঠোঁটে হারিয়ে যাবে শব্দখেলা
শুধু মনের ভেতর বসন্তের পাহারায়
প্রেমের পালকে বারবার রং ছিটিয়ে
বানানো হবে রঙীন কথার খাঁচা
হয়তো কয়েক বছরেই সেখানে ধরবে জং
বৃষ্টিও বেহিসাবী হবে
   অগোছালো হবে তার ঠিকানা
কাকের ঠোঁটের একফোঁটা জলও
দামের পাল্লায় বড্ড ভারী হবে
পাল্টে যাবে ঘাস মাটির রংছবি...

সেই মাঝরাতে শ্মশানের ছাই মেখে
কোন শিশু বলে উঠবেঃ
যে ছবির কল্পনা করেও লেখো নি কোন কবিতা
রাত জেগে জেগে শুধু আয়ুক্ষয় করেছ
সেই না লেখা কবিতা শোনাবো আজ --
                   জেগে ওঠো কবি।
(c) অক্ষয় কুমার সামন্ত


সূর্য আর হিমালয়ের সংলাপ

তোমার থেকে ডাক এলোঃ
      'এখনও ঘুমিয়ে আছো?'
কুয়াশার চাদর সরিয়ে তুমি দেখতে পেলেঃ
      ঘুমের ভেতর তোমাকে অপরূপ সাজিয়ে
          অন্ধকারের গন্ধ মুছে
               হাসি হয়ে উঠবো বলে
                   চোখের তারায় প্রাণ ঢেলেছি।
তুমি বলে উঠলেঃ
   'এই যদি তোমার ঘুম হয়
         তবে ঘুমাও অনন্তকাল
             আমার অনন্ত বুকের ভেতর'।
                  ---'সূর্য আর হিমালয়ের সংলাপ'
(c) অক্ষয় কুমার সামন্ত

হে মৃত্যু

এখনও রাত জেগে জেগে
        কবিতার মতো তোমাকে
              খুব চেনার চেষ্টা করি।
তুমি তো বড়ই অদ্ভূত
     হঠাৎ করে এসেই অন্ধকারের রং
          ছিটিয়ে দিয়ে যাও নি:শব্দ কাচে
কান্নার সেতু পেরিয়ে কে আর
        ধুলো ওড়াবে ফেলে আসা পথে!...

ভয়ে নয় হতাশায় নয়
    বরং খুব যত্নে ভালোবেসে
         তোমার চিবুকে ঠোঁট ছোঁয়াতে চাই;
আমি ফুসফুসকে বেশ বুঝিয়ে নিয়েছি
     জটলাপাকা ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্ট হবে না আর...

আসবার আগে আর একবার এসো
        আমার আঙুলে আঙুল জড়িয়ে
             চিনিয়ে দিয়ে যাও--
                  কিভাবে তোমার ভেতরেও প্রেম
                          জন্মের পোশাক পরে
                                      হে মৃত্যু ।
                                               --- 'হে মৃত্যু'
(c) অক্ষয় কুমার সামন্ত

Friday, October 5, 2018

হে প্রেম

.    ---ঃ হে প্রেম ঃ---

আমি তোমাকে আগুন ভেবে ঝাঁপ দিই
যদি তুমি আমাকে পবিত্র করো
আমি তোমাকে অনন্ত ভেবে ঝাঁপ দিই
যদি তুমি পুনর্জন্ম দান করো
                                        হে প্রেম।

আমি অঙ্কুরের সংলাপ বপন করি উর্বর মাটিতে
যদি তুমি বজ্রগম্ভীর হও
আমি শীতের খোলসে পারদের নেশা ঢেকে রাখি
যদি তুমি খরস্রোতা যৌবন হও
                                        হে প্রম।

কে যেন আমার পালকের ওমে তীর গেঁথে দেয়
আমার ডাকে জঙ্গলও উন্মাদিনী হয়
তুমি যতই আমার ক্ষতে বিষের কুঠার মারো
বারবার আসি খুলে সব মৃত্যুভয়
                                        হে প্রেম।

(c) অক্ষয় কুমার সামন্ত


Thursday, October 4, 2018

তোমাকে বলছি

তোমার খোলা চুলে
   বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা
আজও বুঝিয়ে দেয়
   রাত কতটা গভীর ছিল
তোমার একটু হেসে
   চলে যাওয়া
আজও বুঝিয়ে দেয়
   তাতে কতোটা প্রেম ছিল...
@ অক্ষয় কুমার সামন্ত

যে পথে পা ফেলছো

যেকথা আমরা ছড়িয়ে দিই বিশ্বাসী চোখে
সেকথা রাখার অভ্যেস করি কি?...

--ঃ যে পথে পা ফেলছো ঃ--

যে বুকে তীর গেঁথেছো
সেখানে এখনও অক্ষত রেখেছি পরিচয়
কথা রাখার কথাগুলো এখনও দাউদাউ করে
জ্বলতে দিই নি মিথ্যা নামকরণে
বৃষ্টিও ছুটি নিয়েছে জঙ্গলের ধার ঘেঁষে
মাঝে মাঝে শেয়ালের শব্দ ওঠে
মুগ্ধ চোখের ঠোঁটভেজা বিকেলগুলোকে গর্তে পুঁতে
চলে যেতে চাইছো
যাও, ক্ষতি নেই
যাওয়ার আগে আমার রক্তঝর্ণায় একবার স্নান করে দ্যাখো
যে পাথর ভেঙে ভেঙে পা ফেলছো
সেই পথে আর কোন ঝর্ণার প্রয়োজন আছে কিনা...
(c) অক্ষয় কুমার সামন্ত

Tuesday, October 2, 2018

প্রশ্ন

সব প্রশ্নের উত্তর যে স্পষ্টভাবেই পাওয়া যাবে এমন নয়। আমার মনে হয় সব প্রশ্নের উত্তর সহজভাবে সোজাসুজি না পাওয়া ভালো। কিছু না পাওয়া উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমরা আরো অন্য কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেয়ে যাই। যা খুলে দেয় অনুভবের এক নতুন দরজা। আর এখানেই প্রশ্নের সার্থকতাঃ

কুয়াশার ভেতর হেঁটেছি অনেকবার
না, সূর্যকে খুঁজতে যাওয়ার সাধ হয় নি আমার
তোমাকে সূর্যের মতো দেখবো বলে
জীবনকে দরিদ্র করে বুকের ধারে শান দিয়েছি

মুহুর্তগুলোকে নতুন বইয়ের পাতার মতো
উল্টে উল্টে এখনও খুঁজি চেনা গন্ধ
অস্পষ্ট চাঁদ দেখলে এখনও প্রশ্ন করিঃ
কতোটা প্রেমে তার হাঁটু ডুবেছিল...
(c) অক্ষয় কুমার সামন্ত


পুরানো ফ্রেম


হঠাৎ বসন্ত

তোমার চোখের তলায় রাত যদি ভীড় করে
আমায় ডেকে নিও একটু আদর করে।

মনের ভেতর কিছু অভিমান গুমোট হয়ে থাকুক
বুক পাতলে তোমার ঠোঁট কান্না হয়ে নামুক।

তোমার গানের নির্জনতায় আমি যে বাতাস হয়ে কাঁপি
পথ থামিয়ে সামনে দাঁড়ায় পুরানো চিঠির ঝাঁপি।

বোতাম খুলেও নষ্ট হও নি। ধুলোয় মাড়িয়েছ জল্লাদ -
নগ্ন জেনেও তোমার ঠোঁটে ছোঁয়াই আমার কলমের স্বাদ।

(c) অক্ষয় কুমার সামন্ত

চলো না হারাই কোথাও

কয়েকদিন একটাও শব্দ আসে নি আমার মাথায় 
কয়েকদিন একটাও কবিতার ছায়া ঢেউ তোলে নি মনে
সমুদ্রের কাছে গেলাম
ঢেউগুলো পাঁপড়ির মতো খুলে খুলে
ভিজিয়ে দিচ্ছে আমার মনের ধুলো
ভিজিয়ে দিচ্ছে আমার চোখের কোন
তবু একটাও শব্দ আসে নি কবিতা হয়ে।

মাঝরাতে কতো কথা বললাম চাঁদের সাথে
তবু একটুও আলো ফোটে নি কবিতার উঠোনে
নিঃস্ব হয়ে গেছি কান্নার কাছে —
তবু অগোছালো আমার মন!

অনেকদিন পর তুমি ছড়িয়ে দিলে
এক টুকরো হাসি
ভাসতে ভাসতে ছুঁয়ে গেল আমাকে
যেন আকাশ ভেঙে মেঘ কবিতা হয়ে
বৃষ্টির নূপুর হয়ে নামছে মনের ছাদে...
জোয়ারে ভাসছে তোমার মুখ
এখনও কি সরিয়ে রাখবে নৌকা —
আমারও তো অভিমান হয়
চলো না, ভাসতে ভাসতে হারাই কোথাও...

©®অক্ষয় কুমার সামন্ত

আমার স্বাধীনতা

স্বাধীনতা তুমি আমার রক্তের ভেতর
উন্মাদিনী এক স্রোত
গৃহহীন নিদ্রাহীন কতো অন্ধকার
কতো ঢেউ কতো আলোড়ন
ভেঙেছে আমার বুকের পাঁজর
তবুও উপনিষদের বাণীতে আমার শিরায় শিরায়
বুলেটের শব্দ জল হয়ে যায়।

যখন ইংরেজদের শক্ত বুট
আমার রক্ত-মাংসের শরীরকে মাড়িয়ে যায়
সেই ধুলোর শূণ্যতার ভেতর খুঁজে পাই
আমার ফুসফুসের কোলাহল আমার সাহস।
আমার রক্তের নতুন একটি
আর এইচ্(Rh) ফ্যাক্টরের নাম ভারতবর্ষ
তাইতো আমি হাড়কাঁপা সিয়াচেন হোক
কাঁটাতারের কাশ্মীর হোক বা আসামের প্রান্তর হোক
আমি আমার রক্ত ছিটিয়ে দিয়ে যাই
মৃত্যু থেকে জেগেও বুলেটকে চুম্বন করে যাই...

আমি ভগৎ সিং আমি নেতাজী
আমি মাতঙ্গিনী আমি নাম না জানা অগনিত ভারতবাসী
ক্রোধের আগুন বন্দুকের নলে রেখে
বোমার কেমিক্যালসে রেখে
মাইলের পর মাইল ছুটেছি
দেশ বিদেশ ঘুরেছি
স্বাধীনতা, শুধু তোমাকে আনবো বলে।

যখন লালকেল্লার আকাশে উড়বে তেরাঙ্গা পতাকা
সারাদেশ একসাথে উঠে দাঁড়াবে
সব বিবাদ ঢেকে দিয়ে ভালো করে দ্যাখো
ঐ অশোক চক্রের ভিতর উপচে পড়ছে
তোমার আমার রক্তে ফোটা স্বাধীনতার রোদ
ওটাই স্বদেশ ওটাই স্বাধীনতা
আমিই স্বাধীনতা আমরাই স্বাধীনতা ।।
(c) অক্ষয় কুমার সামন্ত

তোমাকেই ধরে বাঁচতে চাই, অপর্না

স্কুলবেলা - চার -ঃ তোমাকেই ধরে বাঁচতে চাই, অপর্না ঃ- 21/01/2003 জীবনপথে পথ হারিয়ে ফেললেও তোমাকেই ধরে বাঁচতে চাই, অপর্না। ঝাউবনের চেরা...