ছেলেবেলার প্রাপ্তিগুলো ছোট হলেও সেগুলো সারা জীবনের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকে।
বুকসেল্ফের পুরানো বইগুলো গোছাতে গোছাতে হঠাৎ হাতে এসে আটকে গেল স্কুল জীবনে প্রকাশিত হওয়া একটি লেখা। তখন আকাশবাণী কোলকাতা প্রচারতরঙ্গে সকাল সাতটায় প্রাত্যহিকীর অনুষ্ঠান হতো। আমি মাঝে মাঝে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর লেখা পাঠাতাম। একটি প্রকাশনা সংস্থা লেখাগুলো সংগ্রহ করে বই-এর আকারে প্রকাশ করতো। তেমনই একটি আমার লেখাঃ
--ঃ এ বড় সুখের সময় ঃ--
জীবনালোকের সন্ধানী প্রাত্যহিকী,
তুমি বললে কুড়ানো কিছু সুখফুল আঁচল ভরে দিতে, আমি তা না পারলেও যে হৃদয়পঞ্জিকা পাঠালাম তাতে আমার ফুলের অম্লান হাসি খুঁজে পাবে - আশা করি।
আমার জীবনের আকাশগঙ্গায় এসেছিল একজন। মনে হল প্রথম বসন্তের প্রভাতকাল। সকালের রূপোলি আলোয় মুখ তার অপরূপ; - মন্দ সমীরণের দোলায় নড়ছিল তার চুল - বেণীর খোঁপাতে জ্বলেছিল অমৃতসৃর্য; আর তারই স্বপ্নালো হাওয়ায় দুলেছিলাম আমি। তাকে দেখে মনে পড়ছে না একটিও কবিতার নাম - মনে পড়ছে না বেরিয়ে আসার সময় বুলবুলটি শুকনো ঠোঁটে কী গান গেয়েছিল; কিন্তু মনের আকাশে ভেসে উঠছে মেয়েটির প্রতিটি স্বপ্নপালকের রং। সে চিনত আমায়। সহপাঠিনী। কাছাকাছি যেতে স্বপ্নভরা আঁখিদুটির শান্তদুটি পাতা সরিয়ে বললঃ কেমন আছো?
আমি বললামঃ ভালো।
-- কোথায় গিয়েছিলে? টিউশান?
আমি বললামঃ হ্যাঁ।
বাড়ি ফিরছিল সে। পথে যেতে যেতে কথা হলো। ভাষা ছুটলো নদীর মতো। মোহনায় আসার আগে স্তব্ধ হল প্রবাহ। গন্তব্যস্থলের সাঁকোটা বেয়ে দুজন দুদিকে চললাম। সেদিন রাত্রেই 'ফিরে দেখা' কবিতায় লিখলামঃ
"আমি এসেছিলাম টিউশান থেকে
তুমি এসেছিলে বাড়ির পথে
ক্লান্ত সকালে ভীরু ভীরু চোখে
ফিরে ফিরে চেয়েছিলে বারেবার
চোখের সম্মুখে ক্লান্তিময় আলোয়
কেঁপে উঠেছিল রোদ্দুর
স্নিগ্ধ আকাশের সবুজ আঁচল
উড়ছিল হাওয়ায় আর তোমার ঘাড়ের উপর
কোমল চুলগুলি হাত নেড়ে বলেছিলঃ
ফিরে এসো, ফিরে এসো;
ফিরে দেখা হয়নি আর --
ভাগ্যাকাশের পৃথিবী আজ দিনের আশায়
মুখ তুলে আছে।"
কবিতাটি পড়েছিল সে। তারপরে জন্ম নিল অনুরাগ। তার হৃদয়ের শান্ত আকাশ যৌবনের দীপশিখায় চঞ্চল হয়ে উঠল। সে একদিন শুনিয়েছিল আমায়ঃ "ওগো স্বপ্ন তুমি চলে যেও না"...
তারপর স্কুলের বিদায় উৎসবের দিনে কাছে গিয়ে বললামঃ
"গ্রহন করো বিদায়ের শেষ মাল্য খানি
হয়তো আর কভু হবে না দেখা!.."
চোখ থেকে ঝরে পড়ল জল। না জানি কবেকার জমে থাকার আঁখিজল।
তখুনি কম্পিত কণ্ঠে সে গাইলঃ
"আমি তোমার প্রেমে হব সবার কলঙ্কভাগী"...
তারপরে একটি কবিতা লিখে দিলাম তাকেঃ
"জীবনের সব ফুল ঝরে গেলে তবু
আমারি মনের আঙিনায় রয়েছো তুমি
আমারি মনভূমিতে তোমারি আসন পাতিয়াছি --
তোমারি সোপানে রয়েছি আমি।
মোর গান থেমে গেলে
অপরাহ্নবেলার মন্দ সমীরণে
বালুকাতটে এসে কণ্ঠে ধরো গান --
তারি মাঝে বেঁচে রবে মোর নাম।"
-- 'তোমারি সোপানে আমি'।
হ্যাঁ প্রাত্যহিকী, আজও সে আমার স্বপ্নে বেঁচে আছে।
বুকসেল্ফের পুরানো বইগুলো গোছাতে গোছাতে হঠাৎ হাতে এসে আটকে গেল স্কুল জীবনে প্রকাশিত হওয়া একটি লেখা। তখন আকাশবাণী কোলকাতা প্রচারতরঙ্গে সকাল সাতটায় প্রাত্যহিকীর অনুষ্ঠান হতো। আমি মাঝে মাঝে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর লেখা পাঠাতাম। একটি প্রকাশনা সংস্থা লেখাগুলো সংগ্রহ করে বই-এর আকারে প্রকাশ করতো। তেমনই একটি আমার লেখাঃ
--ঃ এ বড় সুখের সময় ঃ--
জীবনালোকের সন্ধানী প্রাত্যহিকী,
তুমি বললে কুড়ানো কিছু সুখফুল আঁচল ভরে দিতে, আমি তা না পারলেও যে হৃদয়পঞ্জিকা পাঠালাম তাতে আমার ফুলের অম্লান হাসি খুঁজে পাবে - আশা করি।
আমার জীবনের আকাশগঙ্গায় এসেছিল একজন। মনে হল প্রথম বসন্তের প্রভাতকাল। সকালের রূপোলি আলোয় মুখ তার অপরূপ; - মন্দ সমীরণের দোলায় নড়ছিল তার চুল - বেণীর খোঁপাতে জ্বলেছিল অমৃতসৃর্য; আর তারই স্বপ্নালো হাওয়ায় দুলেছিলাম আমি। তাকে দেখে মনে পড়ছে না একটিও কবিতার নাম - মনে পড়ছে না বেরিয়ে আসার সময় বুলবুলটি শুকনো ঠোঁটে কী গান গেয়েছিল; কিন্তু মনের আকাশে ভেসে উঠছে মেয়েটির প্রতিটি স্বপ্নপালকের রং। সে চিনত আমায়। সহপাঠিনী। কাছাকাছি যেতে স্বপ্নভরা আঁখিদুটির শান্তদুটি পাতা সরিয়ে বললঃ কেমন আছো?
আমি বললামঃ ভালো।
-- কোথায় গিয়েছিলে? টিউশান?
আমি বললামঃ হ্যাঁ।
বাড়ি ফিরছিল সে। পথে যেতে যেতে কথা হলো। ভাষা ছুটলো নদীর মতো। মোহনায় আসার আগে স্তব্ধ হল প্রবাহ। গন্তব্যস্থলের সাঁকোটা বেয়ে দুজন দুদিকে চললাম। সেদিন রাত্রেই 'ফিরে দেখা' কবিতায় লিখলামঃ
"আমি এসেছিলাম টিউশান থেকে
তুমি এসেছিলে বাড়ির পথে
ক্লান্ত সকালে ভীরু ভীরু চোখে
ফিরে ফিরে চেয়েছিলে বারেবার
চোখের সম্মুখে ক্লান্তিময় আলোয়
কেঁপে উঠেছিল রোদ্দুর
স্নিগ্ধ আকাশের সবুজ আঁচল
উড়ছিল হাওয়ায় আর তোমার ঘাড়ের উপর
কোমল চুলগুলি হাত নেড়ে বলেছিলঃ
ফিরে এসো, ফিরে এসো;
ফিরে দেখা হয়নি আর --
ভাগ্যাকাশের পৃথিবী আজ দিনের আশায়
মুখ তুলে আছে।"
কবিতাটি পড়েছিল সে। তারপরে জন্ম নিল অনুরাগ। তার হৃদয়ের শান্ত আকাশ যৌবনের দীপশিখায় চঞ্চল হয়ে উঠল। সে একদিন শুনিয়েছিল আমায়ঃ "ওগো স্বপ্ন তুমি চলে যেও না"...
তারপর স্কুলের বিদায় উৎসবের দিনে কাছে গিয়ে বললামঃ
"গ্রহন করো বিদায়ের শেষ মাল্য খানি
হয়তো আর কভু হবে না দেখা!.."
চোখ থেকে ঝরে পড়ল জল। না জানি কবেকার জমে থাকার আঁখিজল।
তখুনি কম্পিত কণ্ঠে সে গাইলঃ
"আমি তোমার প্রেমে হব সবার কলঙ্কভাগী"...
তারপরে একটি কবিতা লিখে দিলাম তাকেঃ
"জীবনের সব ফুল ঝরে গেলে তবু
আমারি মনের আঙিনায় রয়েছো তুমি
আমারি মনভূমিতে তোমারি আসন পাতিয়াছি --
তোমারি সোপানে রয়েছি আমি।
মোর গান থেমে গেলে
অপরাহ্নবেলার মন্দ সমীরণে
বালুকাতটে এসে কণ্ঠে ধরো গান --
তারি মাঝে বেঁচে রবে মোর নাম।"
-- 'তোমারি সোপানে আমি'।
হ্যাঁ প্রাত্যহিকী, আজও সে আমার স্বপ্নে বেঁচে আছে।
No comments:
Post a Comment